বুধবার । ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৪ই মাঘ, ১৪৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীরাই একদিন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে : প্রধান উপদেষ্টা

গেজেট প্রতিবেদন

জুলাই আন্দোলনের তরুণ বিপ্লবীরাই ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি এই ডিজিটাল ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে তীব্র জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, মূলত তার ফলেই একটি মহাশক্তিশালী সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ডিজিটাল খাতই বর্তমানে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই খাত থেকেই ভবিষ্যতে সব বড় পরিবর্তন আসবে এবং অন্যান্য সব খাতকে প্রভাবিত করবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, অতীতে নাগরিক সেবার ডিজিটাইলেশন কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

প্রধান উপদেষ্টার মতে, সরকারের কাজ হলো কেবল একটি কার্যকর সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে তুলে দেওয়া এবং জনগণ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করবে-আর এটিই হলো তথ্যপ্রযুক্তির আসল শক্তি। পাহাড়ের তিন জেলায় শিক্ষা ব্যবস্থার দৈন্যদশা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সেখানে আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ইন্টারনেট ছিল। অথচ যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে।

বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক সাহসী ও ভিন্নধর্মী ধারণা পেশ করেন। তিনি বলেন যে, সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণাটি আসলে একটি ভুল পথ এবং এটি এক ধরনের আধুনিক ‘দাস প্রথার’ শামিল। মানুষকে গতানুগতিক চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারকে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় একই পদে থাকা নিয়ে তিনি মত দেন, কোনো কর্মকর্তার পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয়। কারণ দীর্ঘ সময় একই কাজ করলে মানুষের সৃজনশীলতা নষ্ট হয় এবং একটি নির্দিষ্ট ‘মাইন্ড সেট’ তৈরি হয়ে যায়। তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন।

দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশ জালিয়াতিতে বিশ্বে নেতিবাচকভাবে পরিচিত হয়েছে, যা বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। প্রযুক্তিতে প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতে হলে এই জালিয়াতি প্রথা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

ড. ইউনূস প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, আমরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নিয়ে মাথা উঁচু করে চলতে চাই এবং আমাদের সেই সামর্থ্য ও মেধা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জালিয়াতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন